মূল অংশে যান
ঢাকা৫ নভেম্বর ২০২৬ঢাকা ২৬°মাগরিব ১৭:১৭ই-পেপার
সত্য প্রকাশে আপসহীন
আজকের বার্তা
সারাদেশ

উল্লাপাড়ায় মালামাল চুরির অভিযোগে যুবক আটক বৈদ্যুতিক খুটির সঙ্গে বেধে রাখলো এলাকাবাসি

মালামাল চুরির অভিযোগে বৈদ্যুতিক খুটির সঙ্গে বেধে রাখলো এলাকাবাসি যুবকের পরিচয় অজ্ঞাতছবি: আজকের বার্তা

উল্লাপাড়ায় মালামাল চুরির অভিযোগে যুবক আটক, বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখল এলাকাবাসী

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

উল্লাপাড়ায় মালামাল চুরি করার সময় হাতেনাতে এক যুবককে আটক করেছে এলাকাবাসী। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক এলাকায় মালামাল চুরি করার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।

এলাকাবাসী যা বলছেন:

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। বাড়ি, দোকান ও খামার থেকে বিভিন্ন মালামাল খোয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ। আজ হাতেনাতে ধরা পড়ায় এলাকাবাসী তাকে আটক করে বেঁধে রেখেছে, যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে।”

আরেকজন বলেন, “আমরা চাই, পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যাক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। নিজেরা আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়, তবে চুরি বন্ধ হওয়া দরকার।”

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি:

আটকের পর খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ওই যুবককে দেখতে আশপাশ থেকে অনেক মানুষ জড়ো হন। কেউ কেউ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ সময় কেউ তাকে মারধর করেছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অনেকেই বলেছেন, তাকে মারধর না করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই বেঁধে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া:

এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের কাছে খবর পৌঁছানোর পর সাধারণত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয় এবং অভিযোগ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।

এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানা গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতামত:

সচেতন মহল বলছেন, চুরি অবশ্যই অপরাধ এবং এর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে কাউকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা বা গণপিটুনি দেওয়া আইনসম্মত নয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে এবং যারা বেঁধে রেখেছেন, তারাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

তাদের মতে, সন্দেহভাজন কাউকে আটক করলে দ্রুত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই সঠিক পদ্ধতি। একই সঙ্গে এলাকায় চুরি রোধে রাতে পাহারা জোরদার করা, সিসিটিভি স্থাপন এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

শেষ কথা:

উল্লাপাড়ায় এই ঘটনার পর এলাকায় চুরি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী চুরি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

— আজকের বার্তা ডেস্ক

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদনা পরিষদ পর্যালোচনা করে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর