উধুনিয়ায় নির্বাচনের হাওয়া, জনপ্রিয়তার শীর্ষে মাস্টার নাসির উদ্দিন — মডেল ইউনিয়ন গড়ার ১০ দফা
আজকের বার্তা ডেস্ক | উধুনিয়া, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ):
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ৩নং উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চেয়ারম্যান পদে কে আসছেন। তৃণমূল ভোটার, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই নাম — মোঃ নাসির উদ্দিন মাস্টার।
জনপ্রিয়তা জরিপ, মাঠের অবস্থান ও সাধারণ মানুষের মতামতে তিনিই এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
কে এই নাসির উদ্দিন মাস্টার?
নাসির উদ্দিন মাস্টারের রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। তিনি আগদেঘলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত জিএস (জেনারেল সেক্রেটারি) ছিলেন। ছাত্র রাজনীতি থেকেই তিনি মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির দুঃসময়ে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের আগলে রাখার কারণে তিনি তৃণমূলে "পরীক্ষিত নেতা" হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষা জীবনে তিনি বর্তমানে ধুকুরিয়া বেড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা।
পরিবারের ২০ বছরের জনসেবার ঐতিহ্য:
স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিন মাস্টারের পরিবার গত ২০ বছর ধরে উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিত্ব করে আসছে। তার পরিবারের হাত ধরেই ইউনিয়নের বহু রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতেই এবার তিনি প্রার্থী হয়েছেন।
আজকের বার্তাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার:
আজকের বার্তার সাথে একান্ত আলাপকালে নাসির উদ্দিন মাস্টার তার নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন —
১. শিক্ষা বিপ্লব: উধুনিয়ার প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আধুনিক, ডিজিটাল ও মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর। ঝরে পড়া রোধ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা।
২. মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মুক্ত ইউনিয়ন: যুব সমাজকে খেলাধুলা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে মাদক থেকে দূরে রাখা। কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় নয়।
৩. অসমাপ্ত রাস্তার কাজ সমাপ্তকরণ: গত ২০ বছরে তার পরিবারের শুরু করা যে সকল রাস্তা এখনো কাঁচা রয়ে গেছে, তা পাকা ও চলাচল উপযোগী করা।
৪. স্বাস্থ্য সেবা ঘরে ঘরে: উধুনিয়া শেষ সীমানায় হওয়ায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হয়। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ নিশ্চিত করা।
৫. ভূমি অফিস দুর্নীতিমুক্ত: ভূমি অফিসে ঘুষ, হয়রানি বন্ধ। সাধারণ মানুষ যেন নিজের জমির কাজ নিজে সহজে করতে পারে, সেই ব্যবস্থা।
৬. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ইউনিয়ন পরিষদে কোনো দল-মত দেখে নয়, সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার ও সালিশ ব্যবস্থা।
৭. ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তা: সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা গরিব-দুঃখীদের মাঝে কোনো ঘুষ ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছভাবে বিতরণ। প্রত্যেক পরিবারের একজন নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা।
৮. কৃষক বান্ধব ইউনিয়ন: সার, বীজ ও কৃষি ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
৯. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা।
১০. স্বচ্ছ পরিষদ: পরিষদের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখা হবে।
ভোটাররা কি বলছেন?
উধুনিয়ার বাজারে কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সাথে। আব্দুল মান্নান নামে এক কৃষক বলেন, "মাস্টার সাহেব শিক্ষিত মানুষ, তার কথা ও কাজে মিল আছে। তার বাবা-চাচারাও চেয়ারম্যান ছিল, তারা রাস্তা-ঘাট করেছে। এবার তাকেই চাই।"
এক নারী ভোটার বলেন, "তিনি শিক্ষক, আমাদের সন্তানদের বোঝেন। ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছেন, আমরা তার ওপর ভরসা রাখি।"
শেষ কথা:
ভোটের এখনো সময় বাকি। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, ক্লিন ইমেজ, শিক্ষকতার সুনাম, ২০ বছরের পারিবারিক জনসেবার ঐতিহ্য ও তৃণমূল বিএনপির শক্তিশালী সমর্থনে নাসির উদ্দিন মাস্টারই এখন উধুনিয়া ইউনিয়নের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় মুখ।
ভোটাররা যদি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন, তবে পরিবর্তনের পক্ষে রায় আসবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক: আজকের বার্তা প্রতিনিধি, উধুনিয়া, উল্লাপাড়া।







মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।