আজকের বার্তা | ঢাকা | ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক: ৬ মাদক কারবারি আটক, বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদ
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি
তারিখ: ০৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং
গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।
আজ (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। যার ফলে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মাদক পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সরজমিনে পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় সভা করেন। পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য DO Letter দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্তেই গতকালের সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি।
আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ: প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা ছিল। কর্মসূচি চলাকালে ৩০-৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী মারমুখী ভঙ্গিতে গাড়িবহরের দিকে ধেয়ে আসলে জানমালের নিরাপত্তায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
যৌথ অভিযান ও আটক: ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাইকৃত মোবাইল জব্দ করা হয়। ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে গেন্ডারিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য পরিবেশন করেছে। তারা অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা ও মাদক-অস্ত্র উদ্ধারের ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে গিয়ে কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ শিরোনামে চটকদার প্রচারণা চালিয়েছে।
মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয়: মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “মাদকের আস্তানা উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অঙ্গীকার। খণ্ডিত প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।” এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনলাইন ইনচার্জ
আবির হাসান
আজকের বার্তা







মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।