মূল অংশে যান
ঢাকা৫ নভেম্বর ২০২৬ঢাকা ২৬°মাগরিব ১৭:১৭ই-পেপার
সত্য প্রকাশে আপসহীন
আজকের বার্তা
জাতীয়

পুলিশি নিরাপত্তায় সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের লাশ দাফন কবর খুড়লেন মেয়ে বোন

পুলিশি নিরাপত্তায় মানিকের লাশ দাফন কবর খুড়লেন মেয়ে বোনছবি: আজকের বার্তা

পুলিশি নিরাপত্তায় সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের লা/শ দা/ফন, কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন*

*নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের বার্তা ২৪ বিডি* প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার

পিরোজপুরে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মানিক পশারীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার বাড়িতে দাফন করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত:

জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পলাতক অবস্থায় মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

দুপুর ১২টায় তার মরদেহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তার স্বজনেরা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইন্সে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন:

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো, দাফনের জন্য কোনো পুরুষ এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন মিলে কবর খোঁড়েন।

তার বোন বলেন, "আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাটি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।"

পুলিশ ও জামায়াতের বক্তব্য:

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না। দাফনে জামায়াত কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং পুলিশকে সহায়তা করেছে।

প্রেক্ষাপট: ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদনা পরিষদ পর্যালোচনা করে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর