মূল অংশে যান
ঢাকা৫ নভেম্বর ২০২৬ঢাকা ২৬°মাগরিব ১৭:১৭ই-পেপার
সত্য প্রকাশে আপসহীন
আজকের বার্তা
বাণিজ্য

কর্মহীন ৩০ হাজার হাজার শ্রমিক -চট্টগ্রামে দুই বছরে ১৯০ টি কারখানা বন্ধ

কর্মহীন ৩০ হাজার শ্রমিক, গত দুই বছরে বন্ধ ১৯০ কারখানা
কর্মহীন ৩০ হাজার শ্রমিক, গত দুই বছরে বন্ধ ১৯০ কারখানাছবি: আজকের বার্তা

কর্মহীন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক, সামনে এসেছে আটটি কারণ — চট্টগ্রামে দুই বছরে বন্ধ ১৯০ শিল্পকারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত দুই বছরে ১৯০টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, জাহাজ ভাঙা শিল্প ও ইস্পাত খাতের কারখানাই বেশি।

বিজিএমইএ ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুধু ২০২৪-২৬ সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক, সিইপিজেড, কেইপিজেড, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও বায়েজিদ এলাকায় ৫০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে সীতাকুণ্ডে ১৫৬টি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মধ্যে চালু আছে মাত্র ২৪টি।

খাত সংশ্লিষ্টরা কারখানা বন্ধের পেছনে আটটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

১. রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া: ইউরোপ ও আমেরিকায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়াদেশ ৫-৬% কমেছে। ক্রেতারা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের দিকে ঝুঁকছেন। ২. গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নতুন কারখানা গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না। ৩. ডলার সংকট ও এলসি জটিলতা: কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারা, ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি সুবিধা বন্ধ। ৪. ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ও তারল্য সংকট: মালিকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারছেন না। ৫. কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি: ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ৬. শ্রমিক অসন্তোষ ও বেতন বকেয়া: বেতন দিতে না পারায় অনেক কারখানায় টানা অসন্তোষ চলছে। ৭. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা: ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি কারখানায় হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। ৮. কমপ্লায়েন্স ও অবকাঠামো দুর্বলতা: চট্টগ্রামে দক্ষ শ্রমিকের সংকট ও গার্মেন্টস পল্লী না থাকায় ছোট কারখানা টিকতে পারছে না।

বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, "ক্রয়াদেশ কমার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও রাজনৈতিক সংকটে চট্টগ্রামের শিল্পে ধস নেমেছে। দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত না হলে আরও কারখানা বন্ধ হবে।"

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বেকার শ্রমিকদের অনেকেই এখন দিনমজুরি বা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। দ্রুত পুনর্বাসন ও বকেয়া পরিশোধ না হলে মানবিক সংকট বাড়বে।

আজকের বার্তা

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদনা পরিষদ পর্যালোচনা করে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর