কর্মহীন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক, সামনে এসেছে আটটি কারণ — চট্টগ্রামে দুই বছরে বন্ধ ১৯০ শিল্পকারখানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত দুই বছরে ১৯০টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, জাহাজ ভাঙা শিল্প ও ইস্পাত খাতের কারখানাই বেশি।
বিজিএমইএ ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুধু ২০২৪-২৬ সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক, সিইপিজেড, কেইপিজেড, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও বায়েজিদ এলাকায় ৫০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে সীতাকুণ্ডে ১৫৬টি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মধ্যে চালু আছে মাত্র ২৪টি।
খাত সংশ্লিষ্টরা কারখানা বন্ধের পেছনে আটটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া: ইউরোপ ও আমেরিকায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়াদেশ ৫-৬% কমেছে। ক্রেতারা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের দিকে ঝুঁকছেন। ২. গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নতুন কারখানা গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না। ৩. ডলার সংকট ও এলসি জটিলতা: কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারা, ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি সুবিধা বন্ধ। ৪. ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ও তারল্য সংকট: মালিকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারছেন না। ৫. কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি: ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ৬. শ্রমিক অসন্তোষ ও বেতন বকেয়া: বেতন দিতে না পারায় অনেক কারখানায় টানা অসন্তোষ চলছে। ৭. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা: ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি কারখানায় হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। ৮. কমপ্লায়েন্স ও অবকাঠামো দুর্বলতা: চট্টগ্রামে দক্ষ শ্রমিকের সংকট ও গার্মেন্টস পল্লী না থাকায় ছোট কারখানা টিকতে পারছে না।
বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, "ক্রয়াদেশ কমার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও রাজনৈতিক সংকটে চট্টগ্রামের শিল্পে ধস নেমেছে। দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত না হলে আরও কারখানা বন্ধ হবে।"
শ্রমিক নেতারা বলছেন, বেকার শ্রমিকদের অনেকেই এখন দিনমজুরি বা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। দ্রুত পুনর্বাসন ও বকেয়া পরিশোধ না হলে মানবিক সংকট বাড়বে।
আজকের বার্তা







মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হতে পারে।